টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্প

জেন্ডার সমতা

জেন্ডার

মূলধারার উন্নয়নে জেন্ডার সমতার গুরুত্ব:

  • উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে
  • অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে
  • একটি অনুকূল কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করে
  • স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে
  • কর্মক্ষেত্রে নারীর সামাজিক বাধা কমায়
  • উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে নারীর মতামতকে গুরুত্বসহকারে/আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়
  • নারীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করে
  • সেবা প্রাপ্তিতে নারীর অধিকার প্রাধান্য পায়
  • আয়বর্ধক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করে
  • বিভিন্ন কার্যক্রম জুড়ে সচেতনতা বাড়ানো


জেন্ডার সমতা

জেন্ডার সমতা বলতে সাধারণত নারী-পুরুষের মধ্যে অধিকার, মর্যাদা, অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্তগ্রহণ, প্রবেশাধিকার, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সম-অবস্থা বুঝানো হয়ে থাকে। আমরা দাঁড়িপাল্লার এক দিকে বাটখারা এবং অন্যদিকে পণ্য রেখে যেভাবে ওজন সমান করি জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষের মাঝে উল্লিখিত বিষয়সমূহের (অধিকার, মর্যাদা, অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণ) সমতাকে বুঝানো হয়ে থাকে। বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষের তুলনায় সর্বক্ষেত্রে অধঃস্তন অবস্থায় রয়েছে বিধায় জেন্ডার সমতা আনয়ন অত্যন্ত জরুরী।


জেন্ডার সাম্য

জেন্ডার সাম্য হলো জেন্ডার সমতায় পৌঁছানোর একটি প্রক্রিয়া অর্থাৎ সামাজিক এবং প্রকৃতিগতভাবে নারী-পুরুষের কেউ কেউ অধঃস্তন অবস্থায় রয়েছেন, যেমন - সামাজিকভাবে একদিকে নারী খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি বৈষম্যের শিকার। অন্যদিকে অংশগ্রহণ, নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায়ও নারী পিছিয়ে রয়েছে। প্রকৃতিগতভাবেও লিঙ্গ, গর্ভধারণ, বয়স, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদির ভিত্তিতে সমাজে নারী ও পুরুষের ভিন্নতা বিদ্যমান এবং এ ধরণের ভিন্নতার কারণে নারী পুরুষের চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই নারীরা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। সুতরাং জেন্ডার সাম্য হচ্ছে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত নারী পুরুষের চাহিদা সমভাবে পূরণের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।


মর্যাদা ও অবস্থান (নারী-পুরুষের)

নারী ও পুরুষের মধ্যে সুযোগের ব্যবধান দূর করার জন্য বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। সাধারণত নারীরা পরিবার, গৃহস্থালি বা গৃহস্থালির কাজ, সন্তানদের লালন-পালন, খাবার প্রস্তুত, পানি ও জ্বালানি সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু নারীরা খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের অর্থ উপার্জনের সুযোগ কম। তাদের দীর্ঘ শ্রম দিবসের চাপ সহ্য করে। অবসর এবং বিনোদনের সুযোগ কম। পুরুষরা সাধারণত গৃহস্থালী সংক্রান্ত কাজকর্মের দায়িত্ব বহন করে না। তারা মূলত অর্থ উপার্জনের জন্য কাজ করে। খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ রয়েছে ছেলেদের। পুরুষরা নারীদের চেয়ে বেশি অবসর এবং বিনোদনের সুযোগ উপভোগ করে।

সামাজিক বনায়ন বিষয়ক সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী বন ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং উপকারভোগী নারীর সংখ্যা ও বিভিন্ন সামাজিক বনায়ন কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বসতবাড়ির আঙিনায় ফলদ, বনজ ও অন্যান্য উপকারী গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের মাধ্যমে নারীদের শ্রমবাজার ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

Title

কমিউনিটি আপারেশন ম্যানুয়াল- পার্ট ১

en_USEnglish
Verified by MonsterInsights