পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা
পরিবেশগত সুরক্ষা হল, পরিবেশ বান্ধব রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, জৈব-সার প্রয়োগ, আগাছা দমনে আগুনের ব্যবহার না করা, দূষণ এড়ানো এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। সামাজিক সুরক্ষা হলো জীবিকার উন্নয়ন, নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন এবং বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা ও সম্মতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ। সামাজিক প্রভাব হলো বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এটি লিঙ্গ সংবেদনশীলতার মাধ্যমে লিঙ্গ সমতাও নিয়ে আসে। সুফল প্রকল্পের পরিবেশগত সুবিধার মধ্যে রয়েছে বনাঞ্চল বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সহায়তা করা, মিঠা পানির সংরক্ষণের মতো পরিবেশগত সুবিধার উন্নতি, বায়ু দূষণ রোধ, বন্যপ্রাণী এবং এর আবাসস্থল সংরক্ষণ ইত্যাদি। এছাড়া সুফল প্রকল্পের লক্ষ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নীতি অনুসারে দেশের সকল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার সার্বিক জীবনমান ও পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো হবে।
সুফল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পরিবেশগত রক্ষাকবচ আচরণবিধি-
- বনায়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমের নেতিবাচক পরিবেশগত প্রভাব প্রশমন ও প্রতিকারের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন
- বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য ঝোপঝাড় এবং গুল্ম অপসারণে আগুনের ব্যবহার এড়ানো
- বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং করিডোর / রুট সুরক্ষা
- সংরক্ষিত এলাকাসহ সকল বন, জলাভূমি ও বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক পরিবেশগত কার্যক্রম পরিহার
- নির্দিষ্ট বনভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম রক্ষা, দেশীয় মিশ্র বনায়ন এবং বন্যপ্রাণীর জন্য পশুখাদ্য উপযোগী চারা রোপণ
- বন পুনরুদ্ধারের জন্য একক প্রজাতি বা একক চাষ এড়িয়ে চলা
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, রোগ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার পরিহার করা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা
- রোপণের জন্য উপযুক্ত এবং উচ্চমানের চারা ব্যবহার করা ও মাটির ক্ষয় ও ভূমিধ্বস বিবেচনা করা
- বনে যথাযথ অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা
- জলাশয় সংরক্ষণ ও পানি দূষণ পরিহার
- বনায়ন এলাকা থেকে সংগৃহীত চারা উৎপাদনে ব্যবহৃত পরিবেশবান্ধব পলি-প্রোপিলিন ব্যাগের ব্যবস্থা
- পরিবেশ বান্ধব জীবিকা নির্বাহ কার্যক্রম গ্রহণ

